কবিতা বৃষ্টি দর্শন
কবি নাশিদ ববি
সময় বিকেল ৩ টা ৫০ মিনিট ,জাপান
উৎসর্গ কবিতা কে
লিখার স্থান কফি হাউস
সম্পৃক্ততা প্রকৃতি
5/5 - (1 vote)

বললাম কি করছেন
উত্তর এলো কিছু না
চশমা চোখে পড়ে খুব মনোযোগ দিয়ে
কিছু একটা লিখে যাচ্ছেন তিনি ।

হাতে ধরিয়ে দিলেন একটা লেখা
পড়ে দেখতে বললেন ।
এটা তো ভৌতিক কবিতার অংশ –

বড় ঘরে দেয়ালে আটকে আছে
বিশাল আকৃতির এক আয়না
জিজ্ঞাস করার হুকুম নেই
তবে ধারনা করা হল প্রাচীনকালের নিদর্শন বটে ।

রানী মা খাটের উপর বসে পান চিবিয়ে খাচ্ছেন আর পা দুখানি দুলিয়ে যাচ্ছেন অনবরত । একটু একটু পড় ঘড়ির দিকে দৃষ্টিপাত করছেন আর ভীষণ তাড়া দিচ্ছেন সকলকে । লেখক বসে ছিল রানী মায়ের ঘরে । চুপ করে রানি মা দেখে যাচ্ছেন ।
দাস দাসীরা একেক জন একেক কাজে আছে ।

কেউ এক জন উনুনে আগুন জ্বালাতেই
চেঁচিয়ে উঠেন তিনি কে ওখানে ,হেঁসেল ঘরের ঢুকে সবই শেষ করে ফেলল ।
আসে পাশের দরজাগুলো একটু একটু করে ফাঁক হয়ে গেল
আঁধারে যেমন শিয়ালের চোখ দেখা যায় তেমনি
মার্বেল পাথর দেয়া দেয়াল ভেদ করে কালো কালো চোখ বেরিয়ে এলো আর দেখে আবার হাওয়ায় মিলিয়ে গেল । রানী মা সবচেয়ে বিশ্বস্ত দাসী সকলে চোখ রাঙ্গিয়ে গেল । দেখলাম সারা ঘর ভয়ে কেঁপে উঠছে । গর্তের ভিতর থেকে লুকিয়ে থাকা ইঁদুরগুলোওঁ একে একে দেখে গেল হেঁশেলে কে ছিল ?

মাঝে মাঝে লেখকের মনে হয় এই মায়াপুরির সবই সাজানো নাটক ।
একেক টা ঘটনা ঘটে ইচ্ছে করে ঘটে বা কেউ ঘটায় । লেখার কাজে ১২ টা বেজে গেছে তার ।আজ আর সম্ভব নয় ।

পড়ে বললাম ভালো হয়ে তবে বাকিটা কেন লিখলেন না ?
ভদ্রলোক কিছুই বললেন না ,একটি বার আমাকে দেখে মিষ্টি করে হেসে ফেললেন ।
যদিও মাস্কে মুখের বেশির ভাগ ঢাকা ছিল তবে বুঝতে পেরেছিলাম তিনি হাসছিলেন ।

দক্ষিণের জানালা খুলে দিতেই
একরাশ ঠাণ্ডা হাওয়ার সাথে বৃষ্টির জলকণা মুখে এসে পড়ল ।
ভদ্রলোক বলছেন চলুন কফি খেয়ে আসি –
বললাম আজকে না , অন্য কোন দিন হবে ।

সত্যি ভীষণ বৃষ্টি হচ্ছে — পাহাড়ি বৃষ্টি কি দেখেছ ?

guest
0 Comments
Newest
Oldest Most Voted