| কবিতা | একটি সুইসাইড নোট |
| কবি | মার্সেলিন কুইয়া |
| কাব্যগ্রন্থ | সিএমসির মর্গে শুয়ে আছেন জীবনানন্দ দাশ |
| সময় | ৫ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৫ |
| উৎসর্গ | মুন্নি |
| লিখার স্থান | সুভেনীর |
| কবিতার বিষয় | জীবনমুখী |
“সুইসাইড নোট লিখে দেবেন আমায়???”
—লেখা ছিল প্রথম চিঠিটায়।
কোন নাম নেই।
বেনামী!!!
আমি ভাবলুম,
নেহাত মন্দ নয়!!!
আগে লিখিনি; চেষ্টাই করে দ্যাখা যাক না!!!
সুইসাইড নোট ; এ আর এমন কি!!!
কতো লোক লিখছে প্রতিনিয়ত!!!
কেউ মরছে; কেউ বাঁচছে।
লিখে পাঠালেম, “লিখবো।”
পরদিন পেলেম আরেকটি চিঠি।
নাম আছে; ঠিকানাও!!!
আমি পড়া করলেম শুরু…
” আমার জ্যাঠা আমার শরীর হাতিয়ে বেড়িয়েছিলন সাত বৎসর বয়সে।
আপনারা যাকে মলেস্ট বলেন আর কি!!!
এর দেড় বৎসর পর আমার বাপ।
আমার মা ব্যাপার টা জানতো কিন্তু প্রতিবাদ করেন নি কক্ষনো!!!
বাপ মদ খেয়ে বাড়ী ফিরতেন রোজ।
মাকে মারতেনও ; মাঝে মধ্যে আমাকে।
মা’টা বাধা দিতো; আরো বেশি মার খেতো।
আমিও খেতাম।
দূর্বল হয়ে পড়তাম।
বাপ ছিবড়ে খেতেন আমাকে।
আমার স্তন; আমার যোনী।
সেই সাড়ে আট বছর থেকেই!!!
পুরুষজাতটাকে আমি ঘৃণা করতে শিখে গ্যাছি সাত বছর বয়েস থেকেই…
কলেজে উঠে তবু প্রেমে পড়লাম।
প্রেমিক!!!
তিনিও কার্পণ্য করেননি আমায় খুবলে খেতে!!!
হাজার হোক, পুরুষ কিনা!!!
বাপ জেনে গিয়েছিলেন ক্যামন করে।
যোনীতে অন্য কারো প্রবেশাধিকার মেনে নিতে পারেননি।
সে রাতে প্রচুর মারলেন।
প্রচুর!!!
বের করে দিলেন বাসা থেকে।
আমি রাস্তায় কিছুক্ষণ পড়ে থেকে অজ্ঞান হয়ে পড়েছিলাম।
মরিনি অবশ্য!!!
হাজার হোক, নারী কিনা!!!
সকাল বেলা কুড়িয়ে এনেছিলেন মা।
সেই থেকে বাপের চাহিদা গ্যালো বেড়ে।
প্রতিদিন মারতে থাকলেন; ধর্ষণ করতে থাকলেন।
চুপিচুপি সব সহ্য করে গ্যালেন মা!!!
আর এখন,
বাপ বেচে দিতে চান আমায় ; নয়তো মাকে তালাক দিবেন!!!
আমার কি ভালবাসার অধিকার ছিল না?
আমি বুঝি বস্তু!!!
এখন আমি বাড়িতে থাকিনা;পালিয়ে এসেছি।
ওরা খুঁজে বের করার আগেই আমাকে মরতে হবে।
আমার নিজেকে যে নিজের ঘৃণা করে, দাদা।
বাঁচার ইচ্ছে যে নেই।
আমি তো কবেই মরে গেছি।
বেঁচে থাকলে শরীর টা খুবলে খাবে।
মরে গেলে মাকে অত্যাচার করা বন্ধ করে দিবে।
আচ্ছা আমার মা কি কখনো আমাকে সতীনের চোখে দেখে ঘৃণা করেছে?
করেছেন হয়তো!!!
কিংবা করেননি!!!
কি জানি!!
জানিনা।
কার কাছে যাবো?
কেউ যে আপন রইলো না দাদা।
ভালবেসে একটা নতুন জীবনের স্বপ্ন দেখেছিলাম;সেও চলে গেল।
মায়ের কাছে যেতে লজ্জা করে ;চোখে চোখ দিতে পারিনা।
আমার পরিচয় জানতে চাইবেন না।
আপনি আমাকে চিনবেন না।
আমি আপনাকে আপনার লেখা দিয়ে চিনি।
এতোটুকুই থাক……
কথাগুলো আপনাকে বলার কারণ হলো আমার সুইসাইড নোট লিখার আগে আমার গল্পটা জানা জরুরি। আমি আপনার লেখাগুলো পড়ি আর নিজেকে খুঁজে পাই। মনে হয় আমার হয়ে কেউ লিখছে। তাই মনে হলো আপনি ছাড়া আর কেউ লিখতে পারবেনা। আমি নিজেও না। তাই আপনার কাছে আমার অনুরোধ। রাখা না রাখা সেটা আপনার ইচ্ছা…
আপনার জন্য অনেক দোয়া আর শ্রদ্ধা। অনুদি কে ভালবাসা দেবেন। আমি প্রার্থনা করব আপনারা যেন আজীবন সাথে থাকেন। ভালো থাকবেন দাদা।
আসি…….”
চিঠি বন্ধ করলেম।
চোখ গড়িয়ে দুফোঁটা জল গড়ালো কিনা জানিনে।
তবে জ্বলছিল ; একটা অদ্ভুত আগুন জ্বলছিল।
যেন পুড়িয়ে দিচ্ছিল আমার চারপাশ।
এক তীব্র মেলানকোলিক দাবানল গ্রাস করছিল আমার চারপাশ।
আমি লেখার টেবিলে গিয়ে বসি।
ফাউন্টেনপেন উত্তপ্ত।
পাইলট কালি যেন লাভা!!!
উফ!!!
এতো ঘেন্না!!!
খাতা টেনে নিয়ে বসে লিখি সুইসাইড নোট।
না না না
একটা ছিবড়ে খাওয়া নারীদেহ চোখে ভাসে।
সারা দেহে যে লিখে রেখেছে এক অদ্ভুত সুইসাইড নোট।
নারীদেহটি অদ্ভুত!!!
তাতে
চোখ নেই
নাক নেই
মুখ নেই
শুধু যোনী আর স্তন সারা দেহে।
তাতে কাঁপা কাঁপা হাতে লেখা সুইসাইড নোট!!!
মুহূর্তেই দুটো কুকুর এসে চেটে খায় শরীর।
ছিন্নবিচ্ছিন্ন করে।
শেষ রক্তবিন্দুটিও চেটে সাফ করে।
না, আমি আর পারিনা
আমি আর পারিনা।
দিদি, হঠাৎ করে তোর গলাফাটা আর্তনাদ কানে আসে।
আমি নড়তে পারিনা
তোকে বাঁচাতে পারিনা।
তাই, তোকে ছিঁড়ে খেতে থাকে নেড়ি কুকুরজোড়া।
আমি আবার তাকাই।
আগাগোড়া পড়ি চিঠিটা।
আবার,
বারবার!!!
জোর করে লিখতে বসি
মেলানকোলি ভিড় করে আমায় ঘিরে।
অন্ধকার।
আবার লাশ!!!
চিৎকার!!!
আচ্ছা,
এই পৃথিবীতে কি আর কখনো আমার সুইসাইড নোট লেখা হবেনা?

ছুঁয়ে গেল লেখাটি