এখানেই নাকি ফুটবে ফুল!
এখনই ছড়াবে উৎকৃষ্ট বাস, মস্তিষ্কবিবস!
দেখি রোদ ওঠে পশ্চিমে- রাস্তায় চলে যায় রঙচঙ মুখোশ-
পকেট হাতড়াই- লুকোনো দুঃখের মতো টাকারাও গুটিয়ে যায়, গুমোট আঁধারে।
মুখোমুখি বসে থাকি মানুষ ও মুখোশ- দেখি;
মনে হয় পৃথিবীতে এই এক আশ্চর্য আবিষ্কার!
দুঃখেরা ফোন করে-
পৃথিবীর বনে আমি কিম্ভূত বনে যাই- মুখ ও মুখোশে,
শুনি প্রেমিকার বাসরের আশ্চর্য উপাখ্যান-
ক্লাউন সেজে নাচি পৃথিবীর সার্কাসে; সার্কাস্টিক।
বাজারে ঘুরি-
দেখি নশ্বর শসা ও অবিনশ্বর ঈশ্বর পাশাপাশি পাল্লায় চড়েন-
শুনি, সকলের অধিকার থাকে না এইসব আহ্লাদে-
উট এসে পড়ে, মূর্খেরা মদ তুলে নেয় মুখে-
বুদ্ধিজীবক হয়ে যান কৌশলে মূকাভিনেতা- মুখ লুকাই-
যেন আগামেমনন, জানি ছোরা হাতে অপেক্ষারত এজিস্থাস;
তুলে নিই মুখোশ; অদ্ভুত অভ্যাস ।
দেখি রাস্তায় খুন ও খুনকায়-
শীতের মতো শব্দহীন ডাকে মৃত্যু-
জানি মাথায় উপরে ঝলসায় পতনোন্মুখ সূর্য-
পকেট হাতড়াই- খুঁজে নিই নির্লিপ্ত মুখোশ-
জানি এইখানে একখানা চিৎকার বমনের মতো গলা চিঁড়ে বেরোনোর উদ্রেক করে-
পাঁজরের দেয়ালে কড়া নাড়ে উত্তেজিত গোলক।
সকালে প্রাতঃপানের পরে, ইন্টারভিউ দিতে আসি-
টেবিলের অপরান্তে জাইগাম্যাটিক ঝড় তুলে হ্যাটকায় জল্লাদ-
উল্লাসে জেগে ওঠে পাতারা সঙ্গমে- জানি,
এইবারো জল হয়ে উবে যাবে আশারা।
মখমলি উজ্জ্বল রাস্তায় নেমে যাই-
ফোন বাজে- শুনি;
গ্রামে এই ঝড়ে মরে গ্যাছে আতালের সর্বশেষ গরু-
এই নির্বাচনে ভেট হিসেবে নিয়ে গ্যাছে শেষ ভেটকিমাছ-
ম্যারাসমাস আক্রান্ত মর্কট ছোট ভাই-
মায়ের আর্থ্রাইটিস ক্রমেই বেড়েছে জিডিপির মতো-
রাস্তা উপড়ে গ্যাছে জল-
বোনের শ্বশুরবাড়ি থেকে এসেছে যৌতুকের তাগাদা-
গাছটা ভেঙে পড়েছে চালা ঘরে-
এরমধ্যে গতরাতের ঝড়-তুফানে ঘরে ফেরেনি জেলে বাপ!
আলমারিতে তুলে রাখি বিস্তর-অকেজো ফোনালাপ।
লাভারা গাঢ়তর হলে পৃথিবীও উৎকট জানি উতরায় রোষ- আমি বিবস তবু, হাতড়াই জেব-
পড়ি বেকারত্ব; সলজ্জ মুখোশ।
