বাংলা কবিতা, তোমার তরে শেষ শব্দাবলি কবিতা, কবি যাররাফ রহমান রাশহা | কবিতা অঞ্চল
কবিতা তোমার তরে শেষ শব্দাবলি
কবি যাররাফ রহমান রাশহা
সময় ৯ জানুয়ারি, ২০২০, ভোর
উৎসর্গ সর্বদা মনে থাকা সেই প্রিয়
লিখার স্থান নারায়ণগঞ্জ

মেঘপুঞ্জ সেদিন আবির্ভূত হচ্ছিল-
তোমার তরে আমাকে নেয়ার জন্যে।
মেঘপুঞ্জ সেদিন জড়ো হচ্ছিল-
তোমার প্রতি আমায় আরো বিমোহিত করবার জন্যে।

আমার ছিলনা এতে হাত কোনো,
আমি তো চাইনি এর কোনো;
এরপরও কেন দোষ আমার হলো?
এর পাইনা যে উত্তর কোনো।

মেঘপুঞ্জ জড়ো হয়েছিল কি অভিলাষে?
চেয়েছিল কি তা অন্য কিছু তবে?
বুঝেছিলাম আমি কি ভূল কোনো?
সে কি চিন্তা করেছিল তা বোঝা বড় দায় বৈকি।
 
সময় সময়ের ধারায় চলমান,
আমি জীবনের ধারায়,
পৃথিবী তার নিজের কক্ষপথে,
মহাকাশ তার নিজের নিয়মে।
 
এতো কিছুর পরও দায় তা আমারই;
বুঝাতে কেনই বা পারলাম না আমি নিজেকে?
নিজেকে দোষ দিয়ে করছি আজ দোষী,
তবে দোষটা আসলে কোথায় ছিল?
 
পানির আবর্তন ধারাকে বদলাতে বলবে আজ?
নাকি প্রশ্ন তুলবে আমার মনস্তাত্ত্বিক ধারা সম্বন্ধে?
কোনটা করতে তুমি আজ স্বাচ্ছন্দবোধ করছো-
জানিয়ে দাও তা না হয় আমাকে?
 
তোমার জন্যে ধারা বদলাবো আমি,
দোষ দিবো আজ নিজেকে,
তুমি বললে আজ শত বাঁধার জালে-
জড়িয়ে ফেলবো আমি নিজেকে।
 
অনেক কিছু করবো ভাবা আমি আজ-
উন্মাদ এ প্রশ্নোত্তর প্রস্তরে;
আমি জানলাম কি আজ-
তা না জেনে চিন্তাগ্রস্ত এখন নীমিলিত লোচনে।
 
মনে আছে তোমার সেই মেঘপুঞ্জের কথা?
বড় হচ্ছে সে আজ, অনেক বড়।
শরতের আকাশে ঘুরে বেড়ায় সে,
কোমল সাদা রং বয়ে নিয়ে।
 
এরপরো কি দোষ দিতে পারবে তুমি আমায়?
পারবে বলতে কিছু আমার মানসিকতাকে?
বুঝেও সর্বদা তুমি রইলে অবুঝ,
দিয়ে চললে সেই হৃদয় বিদারক ক্লেষ আমাকে।
 
এরপরও তোমায় আমি অভিযুক্ত করবো না,
বলবো না তুমি হলেও ভূল,
তোমার কাছে আমার আজ বলার যে আছে-
বলার আছে সেই দিনের কথা।
 
উদ্বাস্তু আমি যাচ্ছিলাম মেঘপুঞ্জকে দেখে দেখে;
মাঝেতেই দেখা মিললো এক কোমলতার স্পর্শকে।
খনিকের দিশাতে ডুবন্ত আমির কর্ণপাত হলো,
হাহাকারের এক চেচানো ধ্বনির ঝংকারে।
 
বলো তুমি এবার, এর দায়ভার কার?
তুমি কি এরপরও বলবে আমায়-
আমার বিশ্বাসেই গলদ রয়ে গেছে এতদ্বারা?
মেঘপুঞ্জ হুংকার দিয়ে উঠলো এবার।
 
মেঘপুঞ্জকে বুঝানো বড় দায়,
হর্ষ করবার দিন যে আজ!
সে যাতে আজ কোমলতা না হারায়,
তারই মিনতি আমার আজ।
 
তবে, দেখে আজ এক অবিষন্ন উদ্বাস্তুর বিবরন,
মেঘপুঞ্জ নিজেকে রাখবে না আর বন্দি করে;
তোমায় বলেছিলাম মেঘপুঞ্জ বড় হচ্ছে,
আসলেই তা বড় হয়েছে যে আজ!
 
গর্জন শুনা গেলো পূর্ব আকাশে,
কালো মেঘপুঞ্জ ধাবমান আজ তোমার তরে,
তোমার জন্যে খুশির দিন আজ, আমার জন্যেও;
তবে আমার আজ ভিন্নতর,মেঘপুঞ্জ কোমলতা হারিয়েছে যে!
 
এই মেঘপুঞ্জ যদি হয় দায়ী আমার তোমার জন্যে,
তবে এর ভেসে যাওয়া বাঁচাবে আজ আমাকে।
যদি এই মেঘপুঞ্জ করে থাকে আকৃষ্ট আমায়,
এই-ই করবে দূর দূর আজ তোমাকে।
 
থাকবে তুমি সর্বদা তোমার অমায়িক হাসি নিয়ে,
থাকবে তুমি সর্বদা তোমার চাহনি নিয়ে,
এর মাধ্যমেই শেষ হয়ে যাবে আজ সর্বব্যাধি আমি,
প্রাণের পাতা উল্টে যাবে, অপেক্ষা নতুন পাতার আগমনের।

অতঃপর, মেঘপুঞ্জের আগের কোমলতায় ফিরে যাওয়া, কি নির্দেশ করে? ভেবেছো কি?
তবে আর নেই চিন্তে, আজ যে আমি মুক্ত!
তুমি আজ হর্ষ করে বেড়াও তবে, দিনটা তো আজ তোমারই জন্যে নিবেদিত।

guest
0 Comments
Newest
Oldest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments