কবিতা নীল জল দিগন্ত ছুঁয়ে /গীতি আলেখ্য
কবি আজিজুল হক
সময় ২০২২
উৎসর্গ মাধবীলতা কে
লিখার স্থান কোচবিহার ,পশ্চিম বঙ্গ
Review This Poem

আমার লেখা ….গীতি আলেখ্য ….
ঋণ স্বীকার—কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, সুকান্ত ভট্টাচার্য, জীবনানন্দ দাশ,, অচিন্ত্য সেন গুপ্ত, শুভ দাশ গুপ্ত,, প্রতুল মুখোপাধ্যায়, মোসুমী ভৌমিক , হেমাঙ্গ বিশ্বাস এবং গিয়াসউদ্দিন দালাল 🙏🙏

আজ প্রথম মঞ্চায়ন—নেতাজী ইনডোর স্টেডিয়াম, কোচবিহার-14/5/22
নীল জল দিগন্ত ছুঁয়ে
আজিজুল হক
…….,…
কবিতা
…,…………..
বাংলার মাটি, বাংলার জল
বাংলার বায়ু, বাংলার ফল
পুণ্য হউক পুণ্য হউক, পুণ্য হউক এ ভগবান …

ভাষ্য :—-কবিগুরুর চিরশ্বাশত উপলব্ধি ও অভিব্যক্তি যেন আজও আমাদের নির্লিপ্ত চিত্তে অনুধাবন করায়।বাংলা মানেই মায়ের ছোঁযা, বাংলা মানেই নিজস্বতা, বাংলা মানেই এগিয়ে চলা–সে স্বাধীনতার সংগ্রামে হোক কিংবা চিন্তা শক্তি উদ্রেকের ক্ষেত্রেই হোক— সেই সুর যখন ধ্বনিত হয় কোন এক বাঙালী গীতিকারের কণ্ঠে, তখন বাংলা মানেই আত্মতৃপ্তি ..বাংলা মানেই মায়ের স্নেহ ..
গান
……………
আমি বাংলায় গান গাই আমি বাংলায় গান গাই
আমি আমার আমি কে চির দিন বাংলায় খুঁজে পাই
আমি বাংলায় দেখি স্বপ্ন, বাংলায় বাঁধি সুর
আমি এই বাংলার মায়াভরা পথে হেটেছি বহুদূর ..

ভাষ্য :——বিশ্বকবির সোনার বাংলা, মায়ের স্নেহ ভরা ছায়া পথ-আমাদের গর্ব ।জনগণ মণ অধিনায়ক জয় হে’র আসল নায়ক কিন্তু বাংলা তথা বাঙালী। কবির হৃদয়ে ধ্বনিত হয় সে কারণে এক রাশ ক্ষোভ, যখন সামাজিক বৈষম্য সেই সৌন্দর্য কে বিনষ্ট করে,যেন সেই আক্ষেপের বিরুদ্ধে চরম প্রতিবাদ ধ্বনিত হয় কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের কণ্ঠে ..
কবিতা
……………………….
প্রিয়া কে আমার নিযেছিস কাড়ি
ভেঙেছিস ঘর বাড়ি
সে কথা কি আমি জীবনে মরনে কখনও ভুলিতে পারি!
আদিম হিংস্র মানবিকতার যদি
আমি কেউ হই
স্বজন হারান স্বদেশে তোদের চিতা আমি তুলবই …

ভাষ্য——-তীব্র ক্ষোভের প্রতিধ্বনিতে বাংলা চিরকালই উত্তাল, সে কবিতায় হোক কিংবা গল্প গানে বক্তৃতায়। জাত-বেজাতের অংক কষে বিভাজনের বিরূক্তিকর ব্যভিচারে মানুষ যখন ক্লান্ত, অতিষ্ট কিংবা প্রতিবাদের ভাষায় উজ্জীবিত, তখনই তার কণ্ঠে প্রাণ দিতে অবতীর্ণ হন আর এক চির বীর বিদ্রোহী ….
গান
……………………………
জাতের নামে বজ্জাতি সব …

ভাষ্য—–থেমে নেই বাংলা, বাঙালী হাজারও প্রতিবন্ধকতার মাঝেও কোথাও পিছিয়ে নেই এই জাতি, অথচ পিছিয়ে দেয়ার চক্রান্ত কিন্তু ইতিহাস খুঁজ্লেই পেয়ে যাই আমরা॥তারপরেও আমাদের প্রয়াস, প্রিয়তমার স্মিত হাসি, সদা উজ্বল মুখ আমাদের পথ চলতে শেখায়, পথ দেখায় নুতন ভোরে সূর্য টা কে নুতন করে নিজের দখলে আনতে, তাই দেশ কাল সর্বত্র বাঙালির জয় জয়কার ..
কবিতা
……………………..ফিরে আসতেই দেখি
গলির মোড়ে গাছের সেই শুকনো বৈরাগ্য বিদীর্ণ করে
বেরিয়ে পড়েছে হাজার হাজার সোনালী পাতা
মর্মরিত হচ্ছে বাতাসে
দেখতে দেখতে গুচ্ছে গুচ্ছে উথলে উঠছে ফুল
ঢেলে দিয়েছে বুকের সুগন্ধ
উড়ে এসেছে রঙ-বেরঙের পাখি
শুরু করেছে কল কণ্ঠের কাকলি
ধীরে ধীরে ঘন পত্র পুনজ্জে ফেলেছে স্নেহর্দ্য দীর্ঘ ছায়া
যেন কোন এক শ্যামল আত্মীয়তা
অবিশ্বাস্য চোখে দেখলুম
কঠোরের প্রচ্ছন্ন এ মাধুর্যের আয়োজন
প্রাণ আছে, প্রাণ আছে—শুধু প্রাণই আশ্চর্য সম্পদ
এক ক্ষয় হীন আশা
এক মৃত্যু হীন মর্যাদা ..

ভাষ্য—-হ্যা, আসলে প্রাণই সম্পদ, সে প্রাণ শুধু বেচে থাকা নয়, প্রাণের জৌলুস আর উল্লাসে সৃষ্টি সুখে মেতে থাকা–তাতে যদি ভাঙতে হয় বেরিকেড কিংবা উদ্ধত বেয়নেটের সামনেও দোর্দণ্ড প্রতাপে বুক চিতিয়ে প্রতিরোধ করা যায়, ভয় কি তাতে? হ্যা, এই বাংলাই দেখিয়েছে সেই পথ …
গান
…………………………
কারার ঐ লৌহ কপাট
ভেঙে ফেল কররে লোপাট
রক্ত জমাট, শিকল পূজার পাষাণ বেদী
ওরে ও তরু নিশান, বাজা তোর প্রলয় বিষান
ধংস নিশান উড়ুক প্রাচীর, প্রাচীর ভেদী
কারার ….. বেদি

ভাষ্য–বিশ্বকবির নাইট উপাধি প্রত্যাখাণ বাংলা ও বাঙালির আত্মমর্যাদা বৃদ্ধি করেছে পরাধীনতার সমস্ত শাণিত তরবারি কে উপেক্ষা করে।বাঙালী চিরকাল সাহসী জাতি-সে নেতাজী হোক কিংবা দেশবন্ধু! পথ দেখিয়েছে বাংলা, দেখাবে বাংলা, সে কবিতা হোক কিংবা কাব্যে বা সাহিত্য সংস্কৃতিতে—বাঙালির এগিয়ে চলার গতি রুদ্ধ করতে পারেনি কেউ, শুধু কখনও সাময়িক প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করেছে হয়তো! তাই বিশ্বব্যাপী ধ্বনিত হয় …
গান
…………………….. আমরা করব জয়, আমরা করব জয় …

ভাষ্য—-প্রতিবাদ, প্রেম আমাদের রক্তে, বাঙালির আত্মউন্মোচনে, বাংলার কথা, বাংলার গান চিরকালই বাঙালী কে এগিয়ে রেখেছে এক স্বতন্ত্র জাতির মর্যাদায়।তাই বাঙালী ভুলতে পারেনি তার আত্মজ কে, সে কারণেই আজও শত কণ্ঠে উচ্চারিত হয় …
গান
…………………….
আজি বাংলাদেশের হৃদয় হতে ..

ভাষ্য—–আসলে বিশ্বের সর্বত্র বাঙালী আজ ছড়িয়ে পড়েছে নিজস্ব জগৎ সৃষ্টিতে।চিরনজয়ী বাঙালী তাই সাঁতরে পাড়ি দেয় ইংলিশ চ্যানেল-কিশোর-শানু কিংবা অরিজিতের কণ্ঠে আন্দোলিত হয় সন্গীত জগৎ।প্রেমিকের চোখে ধরা পরে জীবনানন্দ ও তার বনলতা সেন …
কবিতা
…………………………
চুল তার কবেকার অন্ধকার বিদিশার নিশা
মুখ তার স্রাবস্তীর কারুকার্য, অতিদূর সমুদ্রের ‘পর
হাল ভেঙে যে নাবিক হারায়েছে দিশা
সবুজ ঘাসের দেশ যখন সে চোখে দেখে
দারুচিনি দ্বীপের ভিতর,
তেমনি দেখেছি তারে অন্ধকারে;
বলেছে সে, এতদিন কোথায় ছিলেন?
পাখির নীড়ের মত চোখ তুলে
নাটোরের বনলতা সেন!

ভাষ্য——জীবন কি শুধু যন্ত্রণার? শুধু পাওযা না পাওয়ার আনন্দ আর বেদনার?প্রেমে অপ্রেমে সাফল্য ,ব্যর্থতায় শুধু কি জীবনের সব অর্থ খুঁজে পাওযা সম্ভব? প্রশ্নটা থেকে যায় বারবার! রসিক বাঙালী চিরকাল অনুসন্ধানী দৃষ্টিভঙ্গি তে দেখেছে জীবন-যৌবনের নানান রূপ ..বাঙালির কর্মক্ষেত্র থেকে রান্না ঘর– তাই দৃষ্টি কেড়ে নেয় আপামর ভারতীয়র।বাঙালির চোখে-মুখে সেই স্বাদ বদলে দেয় সেই অনুভূতি, অনুসন্ধানী গীতিকারের লেখায় ভেসে আসে বাঙালির সেই মিষ্টি মধুর আস্বাদন ……

গান—— বাংলা আমার সর্ষে ইলিশ, চিংড়ি কচু লাউ ….

ভাষ্য—-হ্যা, তারপরেও আছে দুঃখ, আছে বেদনা জীবনের সর্বত্র।আসলে এগুলো সুখানুভূতি কে হয়তো আরও তীব্র করে তোলে। হয়তো ব্যর্থতাগুলো কখনও হতাশ করে তোলে-ভেঙে পরে নিকুঞ্জরা কখনও কখনও, তবুও থামে না পথ চলা! প্রতিবাদি নিকুঞ্জরা তাই গর্জে উঠে কখনও …
কবিতা
…..,………………………
আগুন জ্বলছে তখন নিকুঞ্জর মাথায়
ধূমকেতুর মত দোকানে ঢুকেই নিকুঞ্জ চিত্কার করে বলতে থাকে
আমাকে একটা বন্দুক দিন, আমাকে একটা বন্দুক দিন
যা থেকে হাজার হাজার গুলি বেরোবে।
আমি সমস্ত প্রাক্তন নেতা, মন্ত্রী, কর্তাদের গুলি করে মেরে ফেলব!
সব্বাই কে একদিনে মেরে ফেলব ….
তারপর সারা দেশে একদিনে রাষ্ট্রীয় শোক-একদিনই ছুটি ..
আর তারপর ..আমার মামণির ডায়ালিসিস …….!

ভাষ্য——-ডায়ালিসিস চলছে, চলবে বাঙালী যত দিন তার স্বমর্যাদায় প্রতিস্ঠিত থাকবে।তবে লড়াই চলবে অনাগত ভবিষৎতের দিকে তাকিয়ে।যেতে হবে এগিয়ে সমস্ত প্রতিকুলতা কে ছাপিয়ে ।রবীন্দ্র-নজরুল-সুকান্তের বাংলায় তাই প্রতিবাদ, প্রতিরোধ মজ্জাগত ;সেই প্রতিবাদ ছড়িয়ে পড়ুক আমাদের বুকে, রক্তে রক্তে শিরায় শিরায় …শত কণ্ঠে ধ্বনিত হোক বাংলা তথা বাঙালির বিশ্ব জয়ের আগমনী সন্গীত …..
গান
……………………….
আমি শুনেছি সেদিন তুমি
সাগরের ঢেউয়ে চেপে নীল জল দিগন্ত ছুঁয়ে এসেছ………
সমাপ্তি
নীল জল দিগন্ত ছুঁয়ে
আজিজুল হক

guest
0 Comments
Newest
Oldest Most Voted