| কবিতা | বিড়ালের গল্প |
| কবি | আমিনুল ইসলাম |
| সময় | ১৩ আগষ্ট, ২০২১,রাত্রি |
| উৎসর্গ | প্রভাত চৌধুরী |
| লিখার স্থান | বহরমপুর, পশ্চিম বঙ্গ,ভারত |
১.
হাঁ করে তাকিয়ে আছে রাস্তা
কিছু সুড়সুড়ি ফলেছে তেঁতুল জিভে
লকলকে আগুনকে বোলো
স্পর্শসুখ আর নয়;
বেগুন এইমাত্র পুড়বে বুকে
ছবিগুলো বৃষ্টিতে নুইয়ে গেলে
হাত-পা সেঁকা রোদ
ভেতরে উলুদিয়ে জাগছে মৃত কোষ
আর তখনও আমি দর্শকাসনে
কে কার ঘুড়ি কাটছে! কোন রঙে
মিশে যাচ্ছে জল
শিকে ছিঁড়লেই বিড়ালটি…
বলার মত একগ্লাস স্বচ্ছ তরল নিভে যাচ্ছে
বাঘের গলায়…
২.
পেরেকের দাঁতে ঝুলছে সময়
চিৎপাত দুপুর ম ম
ঘুমের থেকে ছাড়িয়ে নিয়েছে চোখ
তারা মৌমাছি বলেই জানা যায়নি বৈষম্য
একটা দিলখোলা জানালা মন পেতেছে তোমার দিকে
ভিজে জামায় বিড়ালটিও কাতর
গা-ঝাড়া দিয়ে শুকিয়ে নিচ্ছে জল
৩.
চুপচাপ জানালায় টাঙিয়ে দিয়েছে ম্যাঁও
রাস্তা কেটেছে ঘনঘন যাতায়াত
কেউ কেউ দুদণ্ড জিড়িয়ে নিয়েছে রোদ
আবার কালো রঙে ঘুমিয়ে পড়লে
স্বপ্নে বিড়ালটি চুপচাপ তখনও…
৪
অথচ গল্পের গরুটি গাছের নিচেই দাঁড়িয়ে
বিড়ালটিকে মাছ বাছার কাজে লাগানো হয়েছে
এবং সে এর আগে পিঠেও ভাগ করেছিল
এখন দুধের বাটি আগলে রেখেছে শিশুর…
৫.
বাঘের মাসিকে আমিও মাসিই বললাম
মোমবাতির দাঁত ও নখে রিরংসা জেগেছিল
লেজটি গুটিয়ে নিলে মেঘমুক্ত আকাশ
ঝোলায় কয়েক টুকরো খিদে
ফুটোফাটা দিয়ে উঁকি মারছে
হিমেল হাওয়া, টুকছে বেড়ালের সহবৎ…
৬.
গুড়ের স্বাদে প্রাণপন ভ্রমর উড়ছে
দুটি ডানায় কাঁপছে থরথর
চার পায়ে বিপদ এগিয়েছে মন্থর
ঠিক তখনই খরগোশ গোলপোস্টের দিকে
এগিয়ে যেতেই
বলটি শিখলো উড়ান
দানাগুলো জমাট বেঁধে সাঁতরে চলেছে
করোটির ভেতর; সুয়োপোকার গুটি
মাটিতে উলঙ্গ শামুকের মন
একটি উপোস দেশালাই এগিয়ে আসছে জলের ভেতর…
৭.
বিড়ালটি শুনতে শিখছে অ আ ক খ
প্রভুর কাছে একভাড় কৃতজ্ঞতা!
মধুর বোয়াম থেকে চমকে উঠছে মৃতসঞ্জীবনী
এভাবেই বিড়ালটি প্রভুর কানেই বাজিয়ে দিল ম্যাঁও
কৃতজ্ঞতা কৃতজ্ঞতা এবং কৃতজ্ঞতা ও…
৮.
হালুম করলেই- লে হালুয়া!
যেন তেন প্রকারেন প্রাণ বাঁচাই
ভিক্ষের বাটি থেকে উপচে পড়ে আলো
অনবরত বাঘ বৃষ্টি হয়ে ঝরছে…
৯.
এখন রতি কাল। সময়-অসময় ঝরে পড়া
মন তরল না বায়বীয় এটা জানতে চাষাবাদ
আলু-পটল-বেগুন-মূলো আরও নানান
প্রতিটি অনুষঙ্গের সাথে মোহাব্বত
সুনীল আরাম
দুলছেন পিকাসো
আর নাগরের কাছে নাগরিক চাওয়া
তরল না বায়বীয় আজও জানা হলো না…
১০.
বাঁশটি কেটে তেল চকচকে করে পিছনে রাখা
পরম্পরাগত বাঁশের বাহার
আর
খ্যাপাকে নৌকো না-দোলানোর কথা
তৎসহ সব সত্য বচন পাখি আওড়ালেন
এখন করোটি ফুঁড়ে উড়ছে প্রজাপতি
আকাশে রামধনু ভাঙা পণ
সেজেগুজে। সদলবলে।
বিড়ালটি এসব কথা কানে তুলবে না এখন!