কবিতা অক্ষরের অতীত
কবি খন্দকার মঈন হোসেন
সময় 23-jan-2023
লিখার স্থান জগন্নাথ হল
কবিতার বিষয় জীবনমুখী, প্রেম, সমসাময়িক
Review This Poem

প্রথমে কী ছিল—
শব্দ, না শব্দের অপেক্ষা?

যখন সময়ের কোনো বয়স ছিল না,
আলো জানত না নিজের পরিচয়,
নক্ষত্রেরা তখনো অন্ধকারের
অলিখিত পাণ্ডুলিপি।

সেই অনাদির দিকে তাকিয়ে
মানুষ উচ্চারণ করল—ওঁ।

অ-তে জেগে উঠল জাগরণের পৃথিবী,
উ-তে স্বপ্ন পেল আরেকটি আকাশ,
ম্-তে সমস্ত দৃশ্য ডুবে গেল নিদ্রায়।

অথচ তিন ধ্বনির শেষে
যে নীরবতা রয়ে গেল,
তার কোনো নাম দেওয়া গেল না।

আমি সেই নীরবতার কাছে জানতে চাইলাম—
তুমি কি শূন্য,
নাকি সমস্ত পূর্ণতার অদৃশ্য আশ্রয়?

যে মানুষ জন্মের আগে ছিল না,
মৃত্যুর পরে কোথায় থাকে সে?
তার নাম মুছে গেলে
স্মৃতিরও কি মৃত্যু হয়?

নদী সাগরে মিশে নাম হারায়,
অথচ জল কি নিজের অস্তিত্ব হারায়?

প্রদীপ নিভে গেলে
আলো কোথায় যায়?
আর যে চোখ আলো দেখেছিল,
সেই চোখ বন্ধ হলে
অন্ধকারের সাক্ষী থাকে কে?

মন্দিরে ধ্বনিত হয় ওঁ,
পাহাড়ে ফিরে আসে তার প্রতিধ্বনি।
মানুষ ভাবে, অনন্ত বুঝি সাড়া দিয়েছে।

কিন্তু পাহাড় তো মানুষের ভাষা জানে না,
প্রতিধ্বনিও জানে না প্রার্থনার অর্থ।

তবু কেন একটি অক্ষরের কাছে
হাজার বছরের মানুষ
নিজের সমস্ত প্রশ্ন রেখে যায়?

হয়তো মানুষ ঈশ্বরকে খোঁজে না,
খোঁজে এমন এক অস্তিত্ব,
যার কাছে নিজের অনস্তিত্বও
অর্থহীন হয়ে পড়ে।

একদিন আমার উচ্চারণ থেমে যাবে,
নামটি হারিয়ে যাবে মানুষের মুখ থেকে,
মাটির কাছে ফিরে যাবে
এই অস্থায়ী জীবনের সমস্ত ঋণ।

সেদিনও কি ওঁ ধ্বনিত হবে?

নাকি যে নীরবতা থেকে
আমি অনন্তকে চিনতে চেয়েছিলাম,
সেই নীরবতাই একদিন
আমাকে চিনতে অস্বীকার করবে?

guest
0 Comments
Newest
Oldest Most Voted