কবিতা বাংলা আমায় খাক
কবি আল ফাহাদ
সময় জানুয়ারী, ২০২৪, সকাল
উৎসর্গ মাননীয় ফ্যাসিস্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
লিখার স্থান মিরপুর, ঢাকা
সম্পৃক্ততা যশোরে সীমান্ত হত্যায় নিহত রইসুদ্দীন সমীপে
কবিতার বিষয় বাংলাদেশ, রাজনৈতিক, স্বাধীনতা

ঘন কুয়াশায় সীমানায় দাঁড়িয়ে আছো ঠাঁয়!
রইসুদ্দীন! তোমার কি ঠান্ডা লাগে না গায়?

আমার জাওয়ান কহে
এই মাটিতে জুবুথুবু থাকার
ফুরসৎ কই কবি?

আমি নিশ্চুপ মাথা নিচু করে
চোখ ভিজিয়ে যাই।

অগত্যা শব্দে আবার বলে উঠি...
হাতে লাঠি নেই, পোষাকটাও ছাড়া
কে বলে তোমারে দৌড়াতে?

রইসুদ্দীনের তামাশার জবাব
বাংলা দেখেছো? কিংবা বাঘ?

ছড়ি লস্কর পোষাক পাদুকা
অথবা শখের গুটকা তামাক;
ওসব আমার শত্রু সীমানায়
শত্রুর মুখে যাক।

আমি বাংলা মায়ের বদ্ধ উন্মাদ
ডানপিটে আর জেদ ধরা ছেলে
আমার কি আর ওসব কিছুর
খুব কুয়াশায় প্রয়োজন মেলে?

রইসুদ্দীন! দাড়াও... ঘরে আছে মা
বৌ টাও সেদিন ঘরে ছেড়ে এলো
ফুটফুটে দুই গ্যাঁদা শিশু কোলে
যাচ্ছো কোথায়? এই কুয়াশায়?

কবি তুমি থামো...
আমার সীমানা মাটি জল কাঁদা
এ সব কিছুই মা বৌ গ্যাদা
একটা কদম পেছনে কি যাবো?
জীবন থাকতে হোক যত বাঁধা

কথা শোনে না রইসুদ্দীন....
বেজায় ক্ষেপে ঘেমে নেয়ে আছে
আমি বলি তাই তো...
হীমাঙ্কের ঘরে তাপমান তবু
জাওয়ানরা থেমে নাই তো।

কি জানি কি সব ব্যাপারীর দল
ছুট লাগিয়েছে বামে
লাঠি ছড়ি ছাড়া রইসদ্দীন ওরা
এতো সহজেই থামে?

দলবেঁধে ধরে হারে রে রে করে
এগিয়ে যেই না ধরলো...
শীর্ণ রইস কোলপাজিয়ে
বাংলার বুকে পড়লো

অসভ্য আর ইতরের দল
মানুষ হলো না আর
ধস্তাধস্তি কিল ঘুসি শেষে
তলপেটে দিলো পাড়

গলগল করে ফিনকী দিয়ে
রক্ত ছুটেছে গায়ে
এত কিছু হলো তবুও আমার
জোর কমেনি পায়ে

বাম হাত দিয়ে পেট চেপে ধরে
উঠে দাড়িয়েই দৌড়
পূব গগনে সূর্য দেখি
এই এলো বুঝি ভোর

হঠাৎ কে যেন বেয়নেট চেপে
বাট তুলে দিলো বাড়ি
আমি বাংলা মায়ের রইস বলছি
এতো সহজেই মরি?

দুই হাত বেঁধে শেয়ালের মতো
তক্তায় বেঁধে দেহ
শরীর আমার ঝুলিয়ে নিয়ে
আছড়ে ফেললো কেহ!

আমি বুঝে গেছি সীমানায় নেই
ওপারে আছি ঠায়
আমার সীমানা রক্ষিত নেই
যেথা আমার দুচোখ যায়

কুকুরের দল পানিও দেয়নি
আমিও চাই নি মুখে
শুধু বলেছি লাল সবুজের
পতাকাটা দিন বুকে

শপথ আমার পূর্ন হয়েছে
প্রতিজ্ঞা ছিলো যা
বলেছিলাম আমি জীবন থাকতে
সীমানা ছাড়বো না।

ধুকধুক করে কেঁদে কেটে শেষে
রইস ছাড়লো প্রাণ
লাল সবুজ টা উচু করে ধরে
তিরাঙ্গা করলো ম্লান

আমি ডেকে উঠি...
রইস ! ও রইস ! বাড়ি ফিরবে না আর
রইস বললো আমি ফিরছি
মাথা উচু করে সম্ভ্রম অম্লান

মাগরিব শেষ দাফনের আগে
রইসকে বলি শোন...
এই মাটিতেই লুটিয়ে থেকো
পাহাড়ায় আছো যেন।

রইস বলে... শোন কবি
তুমি জীবন্ত কবিতায়
তোমায় পড়লে জীবন্ত তুমি
না পড়লে চেনা দায়

আমি রইসুদ্দীন সীমানায় থেকে
শহীদ হয়েছি আজ
এই বাংলা যতদিন রবে
স্বরণে রইবো তাজ

আমার যত ভ্রাতৃরা আছে
সীমানার দাগ ঘীরে
সবার চোখেতে আমায় দেখবে
পুরো বাংলা জুড়ে

মাথা উঁচু করা আপোষহীন এক
তরতাজা যুব আমি
আমার কাছে জানের চাইতে
দেশটাই বেশী দামী

ফুলেল বিছানা আদর সোহাগ
তোমাদের জন্য থাক
বাংলা মায়ের সন্তান আমি
বাংলা আমায় খাক।

guest
0 Comments
Newest
Oldest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments