১.
এবার আমি নেবো ছিনিয়ে
শ্যামা মাকে শিবের বুক থেকে।
বসাবো আমার হৃদি পদ্মাসনে
আর দাঁড়িয়ে থাকতে হবে না সোনা মেয়েকে।
মাকে কেউ কখনও বসতে বলেনি
না হয় বলবো প্রথম আমি।
এতকাল বিভূতি মাখা শিবের উপর দাঁড়িয়ে থেকে
ওই শ্রীপদের না জানি কি দশা হয়েছে।
শ্যামা মা, আর রাখতে হবে না তোমায় জিভ বের করে
বড় ভয় লাগে ঐ রূপ দেখলে।
অনেক হয়েছে তোমার অসুর নিধন খেলা।
তুমি বাবার মেয়ে
এবার থাকো বসে বাবার বুকের মধ্যে।
— অর্ঘ্যদীপ চক্রবর্তী
১৪/১২/২০২৩
২.
কোথায় গেলে ঐ চরণ পাবো মা পারিস বলতে
শশ্মানে না আকাশে না স্বর্গে না নরকে?
ঐ চরণের তলে থাকার বড় বাসনা অর্ঘ্যদীপের।
তেনার বুকে এমন কী দেখলি
যে ঐ অমূল্য চরণ ফেলার আর জায়গা না খুঁজে পেলি?
তিনি কি একাই তোর ঐ চরণের অধিকারী?
আটকে তো রাখেন নি ধরে বেঁধে।
তবে কেন নেমে আসছিস না
কেন আমাকেও থাকতে দিচ্ছিস না ঐ চরণের তলে?
— অর্ঘ্যদীপ চক্রবর্তী
৯/১২/২০২৩
৩.
কে বলে শ্যামা মাকে যায় না দেখা?
মা তো ছড়িয়ে আছে এ জগতে সর্বত্র।
তাঁকে দেখার মতো চোখ আছে কি কারও?
সে আসে কন্যা হয়ে বাবা মায়ের ঘরে
সে আসে পত্নী হয়ে স্বামীর সেবা করতে।
তাঁকে বোঝার মতো মন আছে কি কারও?
সে সূর্য হয়ে আকাশে জ্বলে
সে ফুল হয়ে গাছে ফোটে।
তাঁকে চেনার মতো ক্ষমতা আছে কি কারও?
— অর্ঘ্যদীপ চক্রবর্তী
১/১২/২০২৩
৪.
ভয় কি রে তোর
আছে তো মা কালভয়হারিণী।
ঐ অভয় পদ যার মাথার উপর রে
জগতে কেউ পারেনা তার করতে ক্ষতি।
মায়ের জন্য যে কাঁদে
মা কাঁদে তার জন্য।
মা তো স্নেহময়ী রে
পরম স্নেহে আগলে রাখেন বুকে।
মাকে ডেকে যা সবসময়
কোনো বিপদ ধারেকাছে ঘেঁষবে না
ঘেঁষলেও কীভাবে যে রক্ষা পাবি
তা নিজেও জানবি না।
— অর্ঘ্যদীপ চক্রবর্তী
২৫/১১/২০২৩
৫.
কবে আমায় ডাকবে মা গো
তোমার কাছে চলে যাবো।
তুমি ছাড়া আমার আর কেউ নেই
এই কথাটি বোঝো না গো?
তোমার কাছে থেকেও
তোমার কাছে নেই যে আমি
তোমার হাতের আদর খেতে
বড় সাধ হয় গো করুণাময়ী।
স্বপনে দেখি তুমি আমার মাথায় হাত রাখো
আমার পাশে বসে থাকো,
হঠাৎ ঘুম ভেঙে গেলে আর পাইনা দেখতে
মা গো আমি আর পারিনা কাঁদতে।
আমার কাজ কবে ফুরোবে মা এ জগতে,
ছেলেকে এত কাজ করাতে তোমার ভালো লাগে?
ছেলে খুব অলস হতে চায়
তোমার কোল থেকে নামতে চায় না শুধু কোলেই থাকতে চায়।
— অর্ঘ্যদীপ চক্রবর্তী
২৩/১১/২০২৩
৬.
কোথাও থাকতে ভালো লাগে না মা
তাই তোর কাছে ছুটে আসি
তোর মুখের দিকে তাকিয়ে থাকলে
আমার ক্লান্তি ঘুম সব যায় দূর হয়ে।
তোকে নিজের থেকেও বেশি ভালোবাসি রে
যদি আমার সাথেই তোকে রাখতে পারতাম সারাক্ষণ
বুকটা ভরে যেত আনন্দে।
তোর শ্রীচরণ আলো করি জবা দিয়ে
কবে আমায় জবা করে ঠাঁই দিবি তোর শ্রীচরণে?
— অর্ঘ্যদীপ চক্রবর্তী
২৩/১১/২০২৩
৭.
“মা মা” বলে এত ডাকি
তবু মা যে সারা দেয় না।
মা কি হারিয়ে গেছে জগৎ থেকে,
ভুলেও ভাবল না ছেলের কথা?
মায়ের পা ধরে কাঁদি নিতি
জবা আমার কষ্ট বোঝে।
নূপুরের ধ্বনি তুলে পারে না কি
ছেলের কাছে আসতে?
“মা মা” বলে এত ডাকি
তবু মা কি পাথর হয়ে আছে?
বাবাও কি বলতে পারছে না,
“যাও না ছেলের কাছে, এত ডাকছে”?
— অর্ঘ্যদীপ চক্রবর্তী
২০/১১/২০২৩
৮.
আয় মা শ্যামা আমার মা
খেলা করি তোর সাথে,
খেলনা-বাটি নিয়ে নয় রে
চন্দ্র সূর্য নিয়ে।
আমি হব আকাশের কালপুরুষ
তুই সপ্তর্ষিমন্ডল,
যখন একটু-আধটু করব দুষ্টুমি
উল্কা বানিয়ে ভয় দেখাবি।
ব্রহ্মান্ড আছে তোর চরণের তলায়
মহাকাশ তোর দেহ হয়,
জানি আমি নয়নের মণি তোর
ছোট্ট মানিক আঁধার কোলের।
— অর্ঘ্যদীপ চক্রবর্তী
১৮/১১/২০২৩
৯.
শ্যামা মা আমি দেখি তুই শিবের উপর নেই দাঁড়িয়ে
এই পৃথিবীর উপর আছিস দাঁড়িয়ে,
আমি অবাক হয়ে তোর মুখের দিকে তাকিয়ে ভাবি
তুই তবে কত বড় রে!
মা গো ধুলো করে রাখ আমায়
তোর চরণের তলায়।
ধুলোর সংখ্যা কি গোনা যায়,
ধুলো লাগে ধুলো মুছে যায়!
তবু তুই যদি না রাখলি
তবে তো আমার জন্মই বৃথা হবে রে
জন্মেছি তো শুধু তোর চরণের তলায় থাকবো বলে।
— অর্ঘ্যদীপ চক্রবর্তী
৮/১১/২০২৩
১০.
শ্যামা মা আমার শ্যামা মা
আমার মায়ের নাম বিশ্বজোড়া
মায়ের রূপেই জগৎ দিশেহারা।
মা আমার দয়াময়ী
মায়ের কাছে যে যা চায় পায় তাই।
শ্যামা মা আমার শ্যামা মা
আমার জগদ্ধাত্রী মা।
মায়ের নাম নিলে মুখে
সকল দুঃখ ঘুচে যায় জীবন হতে।
— অর্ঘ্যদীপ চক্রবর্তী
১১.
মা আমার শ্যামা
আমার ঐ একটিই নাম আছে জানা।
মায়ের রূপের কাছে জগৎ হার মানে
গগন নোয়ায় মাথা মা’র শ্রীচরণে।
জানি আছে আরও কত শত লক্ষ কোটি নাম শ্যামা মায়ের
হরি,রাধা,শিব,বিষ্ণু সব নামই তো শ্যামা মায়ের।
মায়ের মতন এমন করে কেউ ভালোবাসেনি আমায় আগে,
মায়ের মতন এমন করে কেউ কাঁদেনি আমার কাছে।
মা আমার শ্যামা
‘শ্যামা শ্যামা’ বলে ডাকি তাই শোনে সকল কথা।
বলে আমায়, ‘বাছা রে আয় আমার বুকে’
আমি সে কথায় ভুলে বিশ্ব ভুবন ঠাঁই নিই মা’র শ্রীচরণে।
— অর্ঘ্যদীপ চক্রবর্তী
১২.
যে মজেছে শ্যামা নামের জাদুতে
এ জগৎ সংসারের প্রতি
নেই কোনো মোহ তার কাছে।
যে নাম জপের গুণে
সকল পাপ হয় দূর সকল দুঃখ নেয় বিদায়,
সে নাম জপের ফলেই
চরণ মেলে শ্যামা মা’র।
বল সবে
জয় শ্যামা জয় শ্যামা জয় জয় জয় কালী
জয় শ্যামা শক্তিদায়িনী জয় জয় জয় কালী।
— অর্ঘ্যদীপ চক্রবর্তী
দুদান্ত,আপনার কবিতাগুলো গান আকারে প্রকাশ করতে পারি?????