| কবিতা | যদি আমি একটা পাহাড় কিনতে পারতাম |
| কবি | অর্ঘ্যদীপ চক্রবর্তী |
| কবিতার বিষয় | আশা, প্রকৃতি, প্রেম |
যদি আমি একটা পাহাড় কিনতে পারতাম,
তাহলে তার মাথায় কোনো বাড়ি না বানিয়েই
মুক্ত আকাশের তলায় ঘন বন জঙ্গলের মধ্যে বসবাস শুরু করতাম।
আমি তখন খুব অহংকারী হতাম
এই ভেবে যে, ঐ নিচের মাঠ রেলপথ রাস্তাঘাট মানুষজন সবকিছুই তো আমার থেকে কত ছোটো, পিপিলিকার মতো।
মেঘেরা তখন আমার সাথে কত খেলা করতো।
আমি ইচ্ছেমতো ওদের আড়ালে লুকোতাম আবার বেরোতাম-
নিজেকে ইন্দ্রজিৎ ভাবতাম!
মেঘেদেরকে মনের দুঃখের কথা জানাতাম-
আমার জীবনে প্রিয়তমা হয়ে কেউ আসেনি
তাই ওদের কাছে বায়না ধরতাম যে, ওরা যেন বৃষ্টি হয়ে ঝরে পড়ে আমায় একটা ‘ঝর্ণা’ উপহার দেয়।
ঝর্ণাই হতো আমার প্রিয়তমা।
আমি মানুষ হয়ে ঝর্ণার সাথে প্রেমের বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে এক নতুন ইতিহাস গড়তাম।
একসময় তাকে বিবাহ করতাম।
তারপরে আমাদের একটি সন্তান হতো
যার নাম দিতাম ‘নদী’।
কিন্তু মানুষ যে চিরদিন বেঁচে থাকে না
আমাকেও তো একদিন চলে যেতে হবে,
তাই আগে থেকেই মেঘদেরকে সব বলে রাখতাম যে,
যেদিন আমি চলে যাব
সেদিন তোমরা এমন বৃষ্টি হয়ে ঝরে পোড়ো
যেন সেই বৃষ্টির জলের আঘাতে
আমার মরদেহ টুকরো টুকরো হয়ে পাহাড়েই মিশে যায়।
— অর্ঘ্যদীপ চক্রবর্তী
২০/১০/২০২৩