| কবিতা | আমার মৃত্যুর পরে |
| কবি | এ কে বর্মন |
| সময় | ২৩ অক্টোবর, ২০২১, রাত ১.২৬ প্রায় |
| উৎসর্গ | হায়! ভালোবাসা |
আমি ধ্বংসস্তুপের উপর শুইয়ে দেখছি, এ যেন নতুন কোনো ধ্বংসের স্বতস্ফুর্ত বাস্তব। এ অলীক কোনো স্বপ্ন নয়, কিংবা নয় হঠাৎ ঘুম ভেঙে ওঠা ভ্রম ব্যাধী। এ তো সবুজ ব্যকুলতা, টাটকা আর্তনাদ অথচ কি ভীষণ শূন্য হাহাকার!
এই অযাচিত অশোভন বেদনার কথায় কবিতা আমি লিখছি না, এই অসময়ে এসে বিরহের কাব্যি আমি আওড়াচ্ছি না। কতটুকু অবহেলায় ছাই থেকে থেকে হীরে হয়ে উঠে, কত কাল পর? সে কথাও আমি বলছি না অষ্টাদশীর মতো যৌবনের সাধ নিয়ে সমস্ত শরীরে—
এইসব কবিতা লিখছে অন্যকেউ! যার যন্ত্রণার কুন্ডলী আমার হৃদয়কে করে তোলো অসভ্য, বর্বর, পাষবিক, পাষাণ পাথর।
যার শিঙার সাইরেনে প্রলয়ের আহ্বান বেজে ওঠে এই এতটুকুন কোমল বুকে।
কতটুকুইবা এই বুক? একটি উজ্জ্বল ফুলের আঘাতে যে সমুদ্রের ঢেউয়ের মতো ছড়িয়ে ছিটিয়ে পরে বালুকাবেলায়।
এই সভ্যতায় এসেও আমি ক্ষুধার্ত কে-ই বা বিশ্বাস করবে? আমি রাগে ক্ষোভে আত্মাহুতির দেবার জন্য করি তামসিক যজ্ঞের মহা আয়োজন; মন বলে মৃত্যুকে ডেকে এনে
কি আছে ওতে? সব চুষে চুষে নিই জেনে।
নীলকন্ঠের মতো সব বিষ করি কণ্ঠে ধারণ।
তবুও যদি পরিসমাপ্তি ঘটে এই লীলাময়ী চক্রের, তবে ঘটুক।
আমি হার মেনে নেবো মৃত্যুর কাছে, জয়ী হবার ইচ্ছে আমার ছিলোনা কোনোদিনই।
তবে আজ কেন দামামা বাজিয়ে বিপুল টঙ্কারে মেতে উঠি বিপ্লবী যুবকের মতো,হাতের মুঠোয় তুলে নিই আত্মহননের বিশুদ্ধ অঙ্গিকার।
কেননা সময় নেই! তবু শেষ বলে কিছু আছে আমি দেখে যেতে চাই, আমার চোখে ফেটে বেড়িয়ে আসুক পৃথিবীর সমস্ত প্রিয়তমা, প্রেমিক-প্রেমিকা এবং তাদের পরিণতি অথবা সমগ্র শেষ!
লোকে হয়তো তিরস্কার করে বলবে কবি হেরো, কবি হেরো, হেরে গেছে মৃত্যুর কাছে।
বলুক, আপত্তি নেই তবুও এর শেষ হওয়া দরকার! এই তীব্রতা কালের পর কাল বয়ে বেড়াবে এমন হৃদয়ও কি আছে?
হে প্রেমিক, হে প্রেমিকা, হে কবি, হে কবিতা, আছে কি তোমাদের কাছে।
মৃত্যুর পর আমার কিছু শুনতে ইচ্ছে করেনা আর..