কবিতা এপিটাফ
কবি আল ফাহাদ
সময় ১৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২১ রাত্র।
উৎসর্গ রাকিবুল হায়দার
লিখার স্থান মিরপুর, ঢাকা।

আমি ঐশ্বরিক ছিলাম।
এ বাক্যের সত্যতা নিশ্চিত করতে
তোমাদের একটি শোক কিংবা স্বরণসভা প্রয়োজন।

তারপর সন্ধ্যার হলুদ বাতিগুলো,
মানে সৈরাপল্লীচারবন্ধু হুমু এরশাদের
হ্যালোজেন থেকে একটু একটু করে
ফ্লোরিন, ক্লোরিন, ব্রোমিন, আয়োডিন, এ্যাস্টাটিন সহ
বাকী সব কিছু যখন একত্রে জ্বল জ্বল করে
জ্বেলে উঠবে তোমাদের বুদ্ধিদিপ্ত বানিজ্যিক মাথার উপর।
তোমাদের ঘড়ি যখন বলবে, এখন বেজে ৬।
হুড়মুড়িয়ে আমার স্মৃতিচারণ মহড়ার বাকি মহাকাব্য
মদের দোকানের নামাজি বেয়ারা নুরু ভাই থেকে শুরু করে
নির্বোধ দারোয়ান আনোয়ার অব্দি পৌঁছাবে।

আমি যেমন বলি সঞ্জীব দা আর আমার
রেড বাটন থেকে গোল্ডেন ড্রাগনের ইতিহাস।
তেমনি তোমরাও বলবে; তোমরাও আক্ষেপ করবে
প্রতি ফোঁটা শব্দ আর বরফ কুঁচির
টুপ করে ডুবে যাওয়া গল্পের মতো।

আমার হাত। যা স্পর্শ করতে পারেনি শত
সহস্র আকাঙ্খা গুলোকে। যার সামনে
নতজানু নির্বাক হয়ে কেবল যন্ত্রনার প্রহরগুলো
উপভোগ করেছি আর সিন্ধু নদীর ওপারের কবি
কামারের মতো বলেছি,
"চালো হামনে খা লিয়া" "দেখলিয়া যো দেখনাথা"।

এ অভিশাপ নেয়ার মতো কোন ভক্ত
আজও জন্ম নেয়ার দুঃসাহস করে উঠতে পারেনি।
জঠরে পৌঁছুতে পারেনি কোন কীট কিংবা শুক্র।

আরে... একজন কবির অভিমান নেয়ার ক্ষমতা
তো ইশ্বরের নিজেরই নেই। নিজেই যে নিজের
প্রেমে বিভোর হয়ে উদ্গ্রীব আর উৎকন্ঠায়
প্রহর গুনছে মহা প্রলয়ের; সে কি বা এমন দিতে পারে?

একজন কবির চাপা ক্ষোভ...
কোন হাতে তুলে নিবে তার রূহ? কোন সে আজরাইল?
একজন কবির অন্তর্হানে তোমরা সমবেত।

দাঁড়িও না। তোমাদের সহ্য হবে না শাপ৷
তোমরা গলে পড়বে মমের মতো।
কিংবা ধ্বংস হয়ে স্তুপে নিক্ষিপ্ত হবে
তবুও মিটবে না এক রত্তি শাপের ওজন। দাঁড়িও না।

এপিটাফে একটা চিহ্ন আঁকা আছে।
যেখানে কুকুর দৃশ্যমান। যেখানে কুকুরের
এক পা উচু করা পেশাবের দৃশ্য পরিস্কার।
দাঁড়িও না। এখানে দাঁড়ানোর যোগ্যতা
তোমাদের নেই। কেবল কুকুরের আছে।

আমি ঐশ্বরিক ছিলাম,
যা কেবল একটা কুকুরই বোঝে।

guest
0 Comments
Newest
Oldest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments